তিলের তেল – তৈলবীজের রাণী

প্রাচীনতম তৈলবীজগুলোর মধ্যে তিল বীজ অন্যতম। ভারতবর্ষ, আফ্রিকার কিছু অংশ ও চিনে প্রাচীনকাল থেকেই তিলের চাষ হয়। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন গবেষণায় এর স্বাস্থ্য-উপযোগিতাগুলো মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শুরু করে। দানাদার তিলের বীজকে নিষ্পেষিত করার মাধ্যমে তিলের তেল সংগ্রহ করা হয় যা পরবর্টিতে রান্নাবান্না, চিকিৎসা ও রূপচর্চার কাজে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন নিষ্কাশন প্রক্রিয়া তিলের তেলে বিভিন্ন রং ও সুগন্ধি প্রদান করে। আমাদের উপমহাদেশের তিলের তেলে এক ধরণের সোনালি আভা থাকে। তিল্ গাছের পুষ্টি গুণাগুণ এতোটাই বেশি যে একে অনেকে “তৈলবীজের রাণী”ও বলে থাকেন। চলুন এক নজরে দেখে নেয়া যাক, তিলের তেলের গুণাগুণসমূহ।

Sesame oil

তিলের তেলের উপকারিতাঃ

১) তিলের তেলে আছে সেসামল ও সেসামিনল নামক দুই প্রকার এন্টি-অক্সিডেন্ট যা শরীরের উপর শক্তিশালী প্রভাব ফেলে। এন্টি-অক্সিডেন্ট হচ্ছে এমন এক ধরণের পদার্থ যা ধূমপান, বিষাক্ত উপাদান বা বর্জ্য থেকে সৃষ্ট কোষক্ষণন প্রক্রিয়াকে প্রতিহত করে। ফলে বুকের ব্যথা, জ্বালাপোড়া থেকে মুক্ত হবেন। এছাড়া গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে, এই তেল হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।

২) দীর্ঘদিন ধরে হতে থাকা শরীরের যে কোন অংশের ব্যথা অত্যন্ত বিপদজনক। এই ব্যথা , এই যন্ত্রণা কমাতে তিলের তেলে আছে এন্টি-ইনফ্লেমাটরি উপাদান যা হাড়ের, দাঁতের এবং অন্যান্য স্থানের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। তিলের তেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারই হচ্ছে এই ব্যথা নাশ করা।

৩) গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত যে, অপরিপৃক্ত ফ্যাট হার্টের জন্য খুবই ভাল। তিলের তেলে রয়েছে ৮২ ভাগ অপরিপৃক্ত ফ্যাটি এসিড। অর্থাৎ প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড রয়েছে যা হার্টের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে, এমনকি হার্টব্লকের মাত্রাকেও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে।

৪) তিলের তেল ব্লাড-সুগার নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক সহযোগিতা প্রদান করে বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে। তারা নিয়মিত এই তেল গ্রহণ করলে দীর্ঘস্থায়ী সময়ের জন্য ব্লাড-সুগারের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবে।

৫) তিলের তেলে থাকা এন্টি-অক্সিডেন্ট ও এন্টি-ইনফ্লেমাটরি উপাদান শরীরে অভ্যন্তরীণ অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি বাহ্যিকভাবে ক্ষত বা পোড়া স্থানের ব্যথাও উপশমে সাহায্য করে। এতে আছে কোলাজেন নামক গঠনমূলক প্রোটিন যা ক্ষতস্থান শুকানোর হারকে ত্বরান্বিত করে।

৬) তিলের তেল এবং বীজে সামঞ্জস্যভাবে ছড়িয়ে থাকা কপার, ক্যালসিয়াম এবং জিঙ্ক হাড় গঠনে অগ্রসরী ভূমিকা পালন করে। হাড় গঠন ও মজবুতে আজই আপনার ডায়েটে তিলের তেল যোগ করুন।

৭) সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকর আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষা করতে তিলের তেল প্রাকৃতিকভাবে সানস্ক্রিন হিসেবে কাজ করে।

৮) তিলের তেলে রয়েছে সেসামিন এবং ভিটামিন-ই, যা চুলের গোড়া মজবুত এবং চুলকে উজ্জ্বল করে।

৯) যাদের রাতে ঘুম আসে না, বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করতে করতে ভোর হয়ে যায় তারা প্রতিরাতে ঘুমানোর পুর্বে কপালে অল্প করে তিলের তেল মাখবেন। ঘুমের অবস্থার উন্নতি আসবে।

১০) এছাড়া কিছু রিসার্চের মাধ্যমে দেখা যায়, হাত-পায়ের ক্লান্তিভাব, ব্যথা দূরে তিলের তেল মালিশ অত্যন্ত ইতিবাচক ফলাফল বহন করে।

মোটকথা, তিলের তেলের সুবিধাগুলো পাওয়ার জন্য আপনি একে বিভিন্ন রেসিপিতে যুক্ত করে, সামঞ্জস্যপূর্ণ ডায়েটের অংশ হিসেবে আহরণ করতে পারেন।

তিলের তেল ক্রয় করার জন্য ক্লিক করুন এই লিঙ্কেঃ https://alittlebitofsazi.com/product/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b2-%e0%a7%ab%e0%a7%a6%e0%a7%a6-%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%bf/

4 thoughts on “তিলের তেল – তৈলবীজের রাণী”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *