সরিষার তেল – বাঙালির ঘরের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ

বাংলাদেশ সহ ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরিষা একটি শীতকালীন শস্য। এ গাছ সাধারণত এক থেকে দুই মিটার উঁচু হয়ে থাকে। মূলত সরিষা বীজকে নিষ্পেষিত করার মাধ্যমে সরিষার তেল তৈরি করা হয়। সরিষা ক্ষেতে হলুদ ফুল আর সবুজ ডাঁটার মেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য নিদর্শন যা উপভোগ করতে প্রায়শই মানুষ পরিবার, পরিজন ও ক্যামেরা হাতে ছুটে যায়। কিন্তু নানাবিধ কারণে দেশে এখন এর চাষ অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এখন, আসুন আমরা সরিষার তেলের বিস্তর ব্যবহার এবং উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিই।

সরিষার তেলের ব্যবহার ও উপকারিতাঃ

১) সরিষার তেল প্রধানত রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এমন কোন বসতবাড়ির রান্নাঘর নেই যেখানে সরিষার তেল পাওয়া যাবে না। বাঙালির জনপ্রিয় আচার, চাটনি তৈরিতে এই তেল ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মাছ, ডিম, বেগুন ইত্যাদি ভাজি অথবা রকমারি-ভর্তা ,মুড়িমাখা ইত্যাদি খাবারে আলাদা ঝাঁঝালো এবং মুখরোচক স্বাদ আনতে একটু সরিষার তেলের বিকল্প নেই। এছাড়া আমরা উপমহাদেশের বাসিন্দারা অধিকাংশ খাবার উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করে থাকি সুতরাং এখানেও সরিষার তেলের বিকল্প নেই। কম তাপমাত্রার খাবারে যদিও অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যায় কিন্তু উচ্চ তাপমাত্রার খাবারে অলিভ অয়েলের চেয়ে সরিষার তেল ব্যবহার অধিক স্বাস্থ্যসম্মত।

২) সরিষার তেলে রয়েছে অ্যান্টি-ইমফ্লেমেটারি যা তলপেটের অস্বস্তি কমানো, হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করার সাথে সাথে নানাবিধ পেটের রোগ দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা “ওটস” নামক খাদ্যে দেখা যায় এবং পেটের অভ্যন্তরীন অবস্থার উন্নতি এবং মেদের লাগাম টেনে ধরতে এর জুড়ি নেই। সুতরাং পেটের রোগ থেকে মুক্তি পেতে কখনোই সরিষার তেলের সাথে সম্পর্ক ভাঙবেন না।

৩) সরিষার তেল মাথাব্যথা উপশমের পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি, মনযোগ বৃদ্ধি এবং সার্বিকভাবে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতার উন্নয়নে বেশ ভুমিকা পালন করে।

৪) ঠান্ডা-সর্দির ফলে যে নাক বন্ধ বা পানিপ্রবাহের সৃষ্টি হয়, হালকা সরিষার তেল আঙুলের মাথায় নিয়ে নাকে নিলে খুব দ্রুত এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পাশাপাশি ঠান্ডার থেকে তৈরি বিভিন্ন পেশিতে ব্যথা, ঘাড়ে-পিঠে ব্যথা , এগুলো কমাতেও সরিষার তেলের জুড়ি নেই।

৫) সরিষার তেল নিয়ে গুজব ছিল যে এটা হার্টের ক্ষতি করে, কিন্তু পরে এটি ভুল প্রমাণিত হয়। ক্লিনিকাল নিউট্রিশান হতে প্রকাশিত গবেষণা পত্র অনুযায়ী সরিষার তেলে থাকা মনোস্যাচুরেটেড এবং পলিস্যাচুরেটেড ফ্যাট, দেহে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টরেলের মাত্রা কমায় ফলে হৃৎপিন্ডের কোন ধরণের ক্ষতি হবার আশঙ্কা একেবারেই কমে যায়। সরিষার তেলে থাকা কপার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, সেলেনিয়াম ইত্যাদি খনিজ উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

৬) সরিষার তেলে রয়েছে শরীরের মরণাব্যাধি ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি আটকানোর উপাদান। নিয়মিত সরিষার তেল গ্রহণে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

৭) অনেকেই আছেন মাইগ্রেনের প্রচন্ড যন্ত্রণায় চোখ খুলে তাকাতেই পারেন না। সরিষার তেলে থাকা ম্যাগনেসিয়াম সেই যন্ত্রণা কমাতে সাহায্য করবে। সরিষার তেলে ভাজা খাদ্য খেলে বিশেষত এই তেলে ভাজি করা মাছ থেকে শরীরে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় যা অনেক ধরণের রোগ প্রতিরোধসহ শরীরে সার্বিক রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

৮) চুলের ক্ষেত্রেও সরিষার তেলের ব্যবহার ও উপকারিতা অনেক। অনেকেই ভাবেন চুলে সরিষার তেল দিলে চুল চিটচিটে হয়ে যাবে। কিন্তু তা ঠিক নয়। এতে রয়েছে চুলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহের উপাদান। সরিষার তেল চুলের গোড়া মজবুত করে, চুল পড়া রোধ করে, চুলের শুষ্কভাব দূর করে। সবচেয়ে ভাল হয় যদি শ্যাম্পু করার দশ মিনিট আগে মাথায় সরিষার তেল লাগানো হয়। এতে তেলের গন্ধভাব কেটে যাবে এবং চুল হবে সতেজ ও সজীব।

সরিষার তেলের মূল্য তালিকাঃ

সরিষার তেল ৫০০ মিলি ১২৫ টাকা

সরিষার তেল ১ লিটার ২৪০ টাকা

সরিষার তেল ক্রয় করার জন্য ক্লিক করুন এই লিঙ্কেঃ https://alittlebitofsazi.com/product/%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b2-%e0%a7%ab%e0%a7%a6%e0%a7%a6-%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%bf/

2 thoughts on “সরিষার তেল – বাঙালির ঘরের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *